Article

বিভ্রান্তিতে বাংলা ভাষা

অন্তর্জাল জগতে মনের ভাব যতটা না মুখে প্রকাশ করা হয়, তারচেয়ে বেশি প্রকাশ করা হয় লিখে।

কীবোর্ডে উন্মুক্ত ভাষার যুগে লিখছি তো সবাই! কিন্তু বাংলা ভাষার প্রচলিত 
কিছু বিভ্রাটে পড়ে মনের ভাব কি আদৌ প্রকাশ হচ্ছে? কেমন হয় যদি কীবোর্ড 
যুদ্ধে নামার আগেই নাজুক এ ভাষার কিছু নিয়ম জেনে নিই!

কী না কি!

‘কী’ আর ‘কি’ এর গোলকধাঁধায় পড়েননি এমন বাংলা ভাষাভাষী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

কোনটি সঠিক? কী না কি?

উত্তর হলো দুটোই সঠিক। কেবল জানতে হবে সঠিক ব্যবহার।

কঠিন করে বুঝতে চাইলে ‘কী’ হল সর্বনাম, আর ‘কি’ হল অব্যয়।

আর সহজে বুঝতে চাইলে একটা উদাহরণ হয়ে যাক!

আপনি কী/কি খাচ্ছেন?

যখন প্রশ্নটির উত্তর হ্যাঁ অথবা না, তখন লিখতে হবে ‘কি’।

আপনি কি খাচ্ছেন?

– হ্যাঁ, খাচ্ছি।

আর যখন প্রশ্নের উত্তর চাইছেন বর্ণণামূলক, তখন ব্যবহার করুন ‘কী’।

আপনি কী খাচ্ছেন?

– ভাত খাচ্ছি।

কখন পরা, কখন পড়া?

এই ‘পরা’, ‘পড়া’র ঝক্কি যতটা না লেখক পোহায়, তারচেয়ে বেশি পোহায় পাঠক সমাজ। ‘পরা’র জায়গায় ‘পড়া’ দেখলে চোখ বড় কষ্ট পায়!

এ সমস্যা নিরসনে লেখকদের জন্য ছোট্ট একটা টিপস-

আমরা জামা, জুতো, চশমা পরিধান করি। আচ্ছা, কখনো কি আমাদের ‘পরিধান’ বানানে 
ভুল হয়? কখনোই না! ভুলেও আমরা ‘পরিধান’কে ‘পড়িধান’ লিখি না।

এই তো! তাহলে লিখতে হবে,

জামা পরি/ জামা পরা

জুতো পরি/ জুতো পরা

চশমা পরি/ চশমা পরা

‘পরিধানে’ যে ‘র’, এখানেও সেই ‘র’।

এই পরিধান ব্যতিত অন্য সকল পড়া, যেমন- বই পড়া, আকাশ থেকে পড়া, সবকিছুতে ‘ড়’ হবে।

চাই চায়, পাই পায়!

ছোটবেলার পরিচিত এক ছড়া-

তায় তায় তায়

মামাবাড়ি যায়

মামা দিল দুধভাত

পেট ভরে খায়

ছড়াটা কেমন অপরিচিত ঠেকছে না? কোথায় যেন একটা গোলমাল…!

আচ্ছা, আবার পড়ি-

তাই তাই তাই

মামা বাড়ি যাই

মামা দিল দুধভাত

পেট ভরে খাই

এবার ঠিক আছে। কেবল একটা ‘ই’ এর বদলে ‘য়’ বসিয়ে দেয়াতে কেমন বিপর্যয় হল বলুন তো!

এখন আসল কথায় আসা যাক। কখন ‘ই’ বসবে আর কখন ‘য়’, তা মনে রাখতে হবে তাই তাই ছড়া দিয়ে।

এখানে থাম্ব রুল হলো, “নিজের বেলায় ‘ই’, পরের বেলায় ‘য়’।

মামাবাড়ি আমি যাচ্ছি, তাই লিখব ‘মামাবাড়ি যাই’। অন্য কেউ গেল, “সে মামাবাড়ি যায়”।

এভাবেই-

আমি চাই

সে চায়

আমি পাই

সে পায়

 

ব্যস! কত সহজে বাংলা ব্যকরণের তিনটা নিয়ম শেখা হয়ে গেল!

লিখতে গেলে আর ‘কি’ ভুল হবে? জামাটা ‘পরতে’ বইয়ের মত ‘পড়া’ও হবে না 
নিশ্চিত! অনেক তো হল, নতুন কোনো লেখা নিয়ে আসবো আরেকদিন, আজ ‘যাই’।

 

আফিফা আবেদিন,

ইনবাউন্ড মারকেটিং পেশায় জড়িত

ফিচার রাইটার, মডেস্টবিডি