সবুজ রঙা চাঃ গ্রীন টি

আবু মারিয়াম যতবার চায়নাতে যায় ততবারই হাদিয়া হিসেবে থাকে গ্রীণ টি।

গ্রীণ টি নিয়ে অভিজ্ঞতা বেশ বাজে। গ্রীণ টি মানেই যেন বিস্বাদের এক 

নাম।বিয়ের পর পর প্রথমবার মেগাশপে গিয়ে বেশ শখ করে গ্রীণ টি কিনেছিলাম। 

সবুজ রঙের এক প্যাকেটে অনেকগুলো সবুজ সবুজ প্যাক করা প্যাকেট।

রোমান্টিক মুড নিয়ে বহু আশা নিয়ে গ্রীণ টি পান করতে গিয়ে দেখি চায়ের 

স্বাদ বাজে।সেই যে গ্রীণ টি পান করার ইতি হয়েছে এরপরে গ্রীণ টি’য়ের আর নাম

 নিশানা ছিল না আমার জীবনে।

তবে অতিথিপরায়ণ চাইনীজদের বার বার হাদিয়া দেওয়া খুব সুন্দর প্যাকেটের 

মোড়ানো গ্রীণ টি চেখে দেখার লোভ সংবরণ করতে না পেরে প্যাকেটের মোড়ক খুলতে 

গিয়েই চোখ ছানাবড়া।

আরে,এ তো দেখি আস্ত চায়ের সবুজ ছোট ছোট কচি পাতা!!

চাইনীজদের প্রতিটি ফাইভ স্টার কিংবা তিন তারকা,চার তারকার হোটেল হতে 

আরম্ভ করে পাড়ার টঙে এরা গ্রীণ টি সার্ভ করে থাকে।এদের কাছে এতোই লোভনীয় এই

 জিনিস।

আবু মারিয়ায়ের মুখে এত এত প্রশংসা শুনে আবারও বেল তলায় গেলুম।এইবার আর ন্যাড়া হতে হলো না।

স্বাদ, গন্ধ অন্যরকম। বুঝলাম চায়ের মান ভাল নিম্নমানের কিংবা যেনতেন ব্রান্ড এই চায়ের মান সম্মানকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।

গ্রীণ টিয়ের উৎপত্তি চীনে। চাইনীজ লু ইয়ু তো সেই চ্যাং ডাইনেস্টিতেই ৬০০-৯০০ AD) গ্রীণ টিয়ের উৎপত্তি, বিকাশ নিয়ে ‘টি ক্ল্যাসিক”নামের বই 

পর্যন্ত লিখে ফেলেছেন।

চাইনিজরা বেশ স্বাস্থ্য , সৌন্দর্য সচেতন। গ্রীণ টিয়ের সাথে তাঁদের এই 

তাই অবাক হতে হয় নি।বিভিন্ন স্টাডিতে দেখা গিয়েছে গ্রীণ টি খেলে 

চুল এবং ত্বক সুন্দর থাকে। চীনাদের চুল, ত্বক নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নেই

 । জীনগত একটা কারণ তো আছেই। পাশাপাশি এই গ্রীণ টি পান।


গ্রীণ টি’এর প্রস্তত প্রণালী নিয়ে ধারণা না রাখলে যত ভালো ব্রান্ডেরই 

হোক প্রকৃত স্বাদ এবং গন্ধ পাবেন না। ৭৫-৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে এই 

চায়ের লিকার আসলেই চুলা হতে নামিয়ে ফেলুন। আর আস্ত চায়ের পাতা হলে ৩-৪ 

মিনিট ফুটাতে দিন।


চাইনীজরা বেশ হালকা লিকার খেতে অভ্যস্ত।এতোই হালকা যে মাঝেমধ্যে গরম 

পানি ভেবে ভুল করে বসবেন।চিনির ব্যবহার নেই বললেই চলে।প্রাতরাশ কিংবা 

দুপুরের খাবার,রাতের আহার সবকিছুর শেষেই পানির পরিবর্তে এরা কুসুম গরম 

গ্রীণ টি খেতে পছন্দ করে।


গ্রীণ টিয়ের নানা ধরণের ফ্লেভার আছে। তুলসী,জেসমিন,লেমন আরো কত কি!!

যেসব চায়ের লিকার কিংবা পাতা উপরোক্ত পদ্ধতিতে তৈরি করার পরেও তিতকুটে স্বাদ পেলে বুঝবেন নিম্নমানের চায়ের পাতা।

ধোঁয়া ওঠা এক কাপ গাঢ় লিকারের দুধ-চা না হলে অনেকের যেন সকালই হতে চায় 

না। কিন্তু এ ধারণার পরিবর্তন এসেছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষ‍া এবং স্বাদের 

ভিন্নতার জন্যই এখনকার শহুরে ছেলে-মেয়েদের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ‘গ্রিন 

টি’। এর স্বাদ ও স্বচ্ছতা চায়ের কাপে ঝড় তুলতে পারে, তবু সর্বজনপ্রিয়তার 

দৌঁড়ে এখনও ওভাবে এগোতে পারেনি এই চা।

এ নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে অধিকাংশজনেরই উত্তর হবে, গ্রিন টি’র স্বাদ তাদের

 ভালো লাগে না। এর কারণ বাজারজাত নিম্নমানের গ্রিন টি এ চা সম্পর্কে 

নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করেছে। 


প্রথমেই জানা যাক গ্রিন টি কী?

অনেকে গ্রিন টি বলতে এর সবুজ রঙের চা বোঝেন। কিন্তু আসলেই কি তা? সাধারণ

 চায়ের ক্ষেত্রে যেমন অনেক প্রক্রিয়াজাত করে একে দানাদার আকার দেওয়া হয়, 

তবে গ্রিন টির ক্ষেত্রে বেশিরভাগই তা করা হয় না। এটি প্রক্রিয়াজাতকরণের ধরন

 সাধারণ চায়ের চেয়ে আলাদা। অনেক ক্ষেত্রে ছোট ছোট আস্ত পাতাই থেকে যায়। 


জাপান এবং চীনের মতো পৃথিবীর অন্য দেশেও স্বাস্থ্যগত সুবিধার কথা 

বিবেচনা করে ধীরে ধীরে গ্রিন টি’র জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অন্য চায়ের চেয়ে গ্রিন

 টি দ্রুত সংরক্ষণ করা যায়। গ্রিন টি’র প্রক্রিয়াজাতকরণের এই পার্থক্যের 

জন্যই এটি সর্বোচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ধরে রাখতে পারে। গ্রিন টি’তে 

পলিফেনল নামে এক ধরনের উপাদান আছে যা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং 

স্বাস্থ্যগতভাবে উপকারী।

তবে, এ ধরনের চা’তে যে ক্যাফেইন আছে তা অধিকাংশ গ্রিন টি ব্র্যান্ডে 

উল্লেখ নেই। এটা অবশ্যই খেয়াল রাখার বিষয়। কেউ যদি অসতর্কতাবশত রাতে গ্রিন 

টি পান করে ফেলে তবে তার শান্তির ও আরামদায়ক ঘুম উবে যেতে পারে নিমেষেই।


কেন গ্রিন টি উপকারী?

গ্রিন টি’র উপকারিতা অনেক। এটা ওজন কমাতে সাহায্য করে, ক্যান্সার 

প্রতিরোধ করে, গলার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে, মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে। 

এমনকি কেউ যদি ধূমপান ছাড়তে চান, তবে তা ছাড়তেও গ্রিন টি সাহায্য করতে 

পারে। সব কিছু ছাপিয়ে গ্রিন টি বার্ধক্য এবং কপালের বলিরেখা থেকে রক্ষা 

করবে।


কীভাবে গ্রিন টি তৈরি করবেন?

পানির সঠিক তাপমাত্রা এককাপ পারফেক্ট গ্রিন টি তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ 

ভূমিকা পালন করে। পানি যদি বেশি গরম হয় তবে এর স্বাদ তেতো হয়ে যাবে, সঙ্গে 

এটি তার সুবাস হারাবে। অর্থাৎ চা তার স্বভাবজাত স্বাদ ও গন্ধ হারাবে।

কাজেই চা তৈরির সবচেয়ে উপযুক্ত তাপমাত্রা হচ্ছে ৭৫-৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

যদি টি ব্যাগ ব্যবহার করেন তবে এটা ২-৩ মিনিট ফুটিয়ে নেবেন। চা পাতার জন্য 

তা আরেকটু বেশি সময় নেবে, ৩-৪ মিনিট।

চা নির্বাচনে

আমাদের অনেকেই শুধ‍ু ভালো চা নির্বাচনের অভাবে গ্রিন টির স্বাদ সম্পর্কে

 একটা খারাপ ধারণা পোষণ করি। গ্রিন টি’প্রেমীদের জন্য বহুল প্রচলিত কিছু 

ভারতীয় ব্র্যান্ডের গ্রিন টি’র পরিচয় এবং স্বাদ সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে 

ধরেছে এনডিটিভি। আশা করা যাচ্ছে আশপাশের দোকানগুলোতেই এ ব্র্যান্ডের চা 

পাওয়া যাবে।


ব্র্যান্ড

টেটলি, অর্গানিক ইন্ডিয়ান, ইকো ভ্যালি, গায়া, তাজমহল এবং মিত্তাল এই 

ব্র্যান্ডের গ্রিন টি আপনি সহজেই আপনার বাড়ির পাশের মেগাশপেই পেয়ে যেতে 

পারেন। ব্র্যান্ডের ভিন্নতা অনুযায়ী এর গন্ধেরও তারতম্য হতে পারে।

কতগুলো সাধারণ প্রশ্নের উত্তরেই আপনি চায়ের ধরণ বুঝে যেতে পারেন। যেমন-

*গন্ধটা কি মৌলিক এবং মৃদু নাকি মাত্রারিক্ত ছিল?

*চা কি কষটে নাকি তিক্ত স্বাদের?

*চায়ের গন্ধটা কি আমাদের আরও কিছুক্ষণ কাপের সঙ্গে থাকতে উদ্ধুদ্ধ করে নাকি আমাদের মুখ ফিরে আসে?

*সুপেয় না উপভোগ্য?

*চা কি আপনাকে যথেষ্ট আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো?

যদি এ প্রশ্নের উত্তর ইতিবাচক হয় তবে আপনি বুঝবেন আপনি আপনার পছন্দের 

জিনিসটা ঠিক ঠিক বেছে নিতে পেরেছেন। আর যদি নেতিবাচক হয় তবে বুঝবেন ঠিক এই 

ফ্লেভারটি আপনার উপযোগী নয়।