Continue Shopping Order Now
মেনোপজ কি, কেন হয়, কিভাবে ডিল করবেন?

মেনোপজ সাধারণত ৪৫-৫৫ বছর বয়সের মহিলাদের হয়ে থাকে। যখন আপনার পিরিয়ড পরপর ১২ মাস মিস হবে তখন বুঝবেন আপনার মেনোপজ হয়েছে। মেনোপজ হলে আর সাধারণভাবে মেয়েরা মা হতে পারেনা। প্রতিটি মেয়েকেই আল্লাহ হায়াত দিলে এক সময় মেনোপজ পার হতে হয়। তাই এই সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে রাখা প্রয়োজন। আজ আমরা মেনোপজ সম্পর্কে আলোচনা করবো।

মেনোপজ কখন শুরু হয় ও কতদিন থাকে?

সাধারণত মেনোপজ শুরু হওয়ার চার বছর আগে থেকে মেনোপজের বৈশিষ্ট্য গুলো দেখা যেতে থাকে এবং মেনোপজ হয়ে যাওয়ার পরেও ৪ বছর পর্যন্ত বৈশিষ্ট্য গুলো থেকে যায়। মেনোপজ হওয়ার গড় আয়ু ৫১ বছর। অনেকের হটাৎ করেই মেনোপজ হয়ে যায় আবার অনেকের মেনোপজ হওয়ার অনেক আগে থেকেই মেনোপজের লক্ষণ দেখা দেওয়া শুরু করে। আবার অনেকের মেনোপজ হওয়ার পরেও ১২ বছর পর্যন্ত মেনোপজের বৈশিষ্ট্য গুলো দেখা যায়।


একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে শতকরা ১ ভাগ নারীর মেনোপজ হয় ৪০ বছরের পুর্বে, শতকরা পাঁচ ভাগ নারীর মেনোপজ হয় ৪০-৪৫ বছরের মধ্যে। এধরনের সময়ের আগে মেনোপজ হলে তাকে প্রিম্যাচিউর মেনোপজ বা প্রাইমারী ওভারিয়ান ইনডেফিসিয়েন্সি বলে।

পেরিমেনোপজ, মেনোপজ, পোস্টমেনোপজঃ

পেরিমেনোপজের সময় পিরিয়ড অনিয়মিত হয়ে যায়। হতে পারে পিরিয়ড দেরিতে হয় বা এক দুইমাস পরপর পিরিয়ড হয়,অথবা পিরিয়ডের সময় ব্লিডিং অনেক বেশি বা খুব কম হতে পারে।

যখন টানা ১ বছর পিরিয়ড সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ থাকে তখন তাকে মেনোপজ বলে।

পোস্টমেনোপজ হচ্ছে মেনোপজের পরবর্তী সময়। অর্থাৎ পিরিয়ড যখন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে এরপরের অবস্থাকে পোস্টমেনোপজ বলে।

মেনোপজকেন হয়??

মেনোপজ আল্লাহর সৃষ্টি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ওভারি যখন তার বার্ধক্যে পৌছে এবং ডিম্বানু তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করতে পারেনা তখন মেনোপজ শুরু হয়। প্রজেস্টেরন, এস্ট্রোজেন, টেস্টোস্টেরন, ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন ( FSH), লুটেনাইজিং হরমোন ( LH) হরমোন কমে যাওয়ার ফলে শরীরের সাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে। FSH কমে গিয়ে এক সময় বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ডিম্বানুও তৈরি বন্ধ হয়ে যায় এবং সেই নারী বাচ্চা জন্মদানের ক্ষমতা হারায়। এছাড়া কোন কারণে ইউটেরাস ও এভারি ক্ষতিগ্রস্থ হলে অপারেশনের মাধ্যমে ফেলে দিতে হয়। যেমন ইউটেরাস বা ওভারিতে টিউমার হলে, দুর্ঘটনায় আঘাত পেলে, ওভারি কাজ করা বন্ধ করে দিলে সময়ের আগেই জোর পুর্বক মেনোপজহয়ে যায়। যে প্রক্রিয়া কয়েক বছর ধরে হতো তা অল্প সময়ে হয়ে যায়। তখন শরীরে মেনোপজএর উপসর্গগুলো প্রকট হয়ে দেখা দেয়।

মেনোপজের লক্ষণ সমূহঃ

প্রতিটি নারীর মেনোপজের লক্ষণ ভিন্ন। মেনোপজের উপসর্গগুলো সবচেয়ে তীব্র হয় যদি হটাৎ করেই বা অল্প সময়ের ব্যবধানে মেনোপজ হয়ে যায়। পেরিমেনোপজের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো-

১. পিরিয়ড অনিয়মিত হয়ে যাওয়া।

২. অনেক বেশি ব্লিডিং বা অনেক কম ব্লিডিং হওয়া।

৩. ভ্যাসোমটর সিম্পটমস, যেমন হটাৎ করেই খুব গরম লাগতে থাকা, অনিদ্রা, বা রাতে খুব ঘামানো ইত্যাদি দেখা যায়।

এছাড়া মেনোপজের আগে পরে বা মেনোপজ চলাকালীন সময়ে আরও কিছু উপসর্গ দেখা যায়।যেমন,

*লজ্জাস্থানের শুষ্কতা

* ওজন বেড়ে যাওয়া

* বিষন্নতা

* উদ্বেগ

* অমনোযোগীতা

* শুষ্ক ত্বক, মুখ ও চোখ

* মাথাব্যথা

* লিবিডো কমে যাওয়া

* দ্রুত ভুলে যাওয়ার প্রবণতা

* হার্টবিট দ্রুত হওয়া

* প্রস্রাব বেড়ে যাওয়া

* ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন

* স্তন ফুলে যাওয়া বা ঝুলে যাওয়া

* হাড়ের জোড়ায় ব্যথা করা

* পেশী ভর কমে যাওয়া

* হাড়ের ভর কমে যাওয়া

* চুল পড়া বেড়ে যাওয়া

* শরীরের অবাঞ্চিত স্থানে লোম বেড়ে যাওয়া


এসকল লক্ষণের এক বা একাধিক দেখা দিতে পারে।অনেক সময় অন্যান্য কোন শারিরীক সমস্যায় একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। তাই লক্ষনগুলি দেখা গেলে একজন ডাক্তারকে দেখিয়ে নিশ্চিত হিতে হবে যে মেনোপজ শুরু হয়েছে।

মেনোপজ হচ্ছে কিনা কিভাবে নির্ণয় করা হয়??

মেনোপজের লক্ষণ গুলো দেখা গেলে ও বয়স ৪৫ এর কাছাকাছি হলে ডাক্তার মেনোপজ নির্ণয়ের জন্য রক্তে FSH এবং এস্ট্রজেন হরমোনের একটি গঠন এস্ট্রাডায়োলের পরিমাণ কেমন দেখতে একটি টেস্ট দিতে পারে।তবে এই টেস্টটি ব্যয়বহুল হওয়ায় সচরাচর দেওয়া হয়না। মেনোপজ নাকি অন্য কোন সমস্যার কারণে হরমোনের তারতম্য হচ্ছে কিনা দেখতে আরও কিছু টেস্ট দেওয়া হয় যেমন,ব্লাড লিপিড প্রোফাইল, লিভার ফাংশন টেস্ট, কিডনি ফাংশন টেস্ট, থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট ইত্যাদি।

চিকিৎসা ঃ

মেনোপজের লক্ষণগুলো যদি সাভাবিক জীবনে খুব বেশি সমস্যা তৈরী করে তাহলে ডাক্তার এর কিছু চিকিৎসা দিতে পারেন। হরমোন থেরাপি এ ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া নির্দিস্ট সমস্যার জন্য নির্দিস্ট চিকিৎসা দিতে পারে ডাক্তার। যেমন চুল পরার জন্য শুধু এই সমস্যার জন্য নির্দিস্ট চিকিৎসা দিতে পারে। এছাড়া কিছু মেডিসিন দিতে পারে তবে মেনোপজ হবেই। এটা বন্ধ করা যায়না। চিকিৎসা দেওয়া শুধুমাত্র এর লক্ষনগুলোর তীব্রতা থেকে আরাম দেওয়ার জন্য। মেনোপজের উপসর্গুগুলোর ঘরোয়াভাবেই চিকিৎসা নেওয়া যায়। নিজের জীবন যাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে ও কিছু কাজের মাধ্যমে আপনি মেনোপজ ঘটিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

নিজেকে ঠান্ডা রাখা ও আরামদায়ক থাকাঃ

মেনোপজের সাধারন উপসর্গ হলো হট ফ্ল্যাশ ও রাতে ঘামানো। হট ফ্ল্যাশ হলো হটাৎ করেই প্রচুর গরম লাগতে থাকা আর ঘামাতে থাকা। শরীরের তাপমাত্রা হটাৎ বেড়ে যায়। এজন্যে ঢিলেঢালা জামা পরতে হবে।হটা ফ্ল্যাশ তো যাবেনা তবে ঢিলেঢালা জামার কারণে গরমে আরাম পাওয়া যাবে।সম্ভব হলে বাসাকে ঠান্ডা রাখুন। হাতের কাছে ছোট পোর্টেবল ফ্যান রাখতে পারেন।রান্নাঘরের গরমে কাজ করার সময় এই ফ্যান ব্যবহার করে নিজেকে ঠান্ডা রাখতে পারেন। রাতেও বেশি ঘামালে একটা ফ্যান রাখতে পারে বিছানায়।

ওজন ঠিক রাখুন ও ব্যয়াম করুনঃ

মেনোপজ আসন্ন বুঝতে পারলে আপনার প্রতিদিনের ক্যালরি গ্রহণ কমিয়ে ৪০০-৬০০ এর মধ্যে নিয়ে আসুন যাতে ওজন ঠিক রাখতে পারেন। প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিটের মত হালকা ব্যয়াম করতে পারেন। হাঁটা বা সুইমিং করা এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপকারী। ব্যায়ামের ফলে শক্তি বৃদ্ধি পায়, ঘুম ঠিকমতো হয়, মন ভালো থাকে, স্বাস্থ্য ঠিক থাকে।

সমস্যা নিয়ে আলাপ করুনঃ

মুড সুইং বা মন মানসিকতার পরিবর্তন খুব বেশি দেখা যায় 

মেনোপজের সময়।হটাৎ কারণ ছাড়াই মন ভালো হয়ে যায় বা খুব তুচ্ছ কারণে মনে অনেক বেশি খারাপ থাকে।বিষন্নতা, দুশ্চিন্তা দেখা যায় বেশি।মাঝে মাঝে মন খারাপের জন্যে কারণও লাগেনা। কিন্তু আপনাকে দেখে তা বুঝা যাবেনা। আপনার আশাপাশের কেও বুঝবেনা কখন আপনার ভালো লাগে কখন খারাপ। তাই কোন কারণে মন খারাপ থাকলে তা আপনার পরিবারের সাথে শেয়ার করুন। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে কথা বলুন। কিন্তু নিজের মনের মধ্যে কষ্ট রেখে নিজেকে কষ্ট দিবেন না। এবং অবশ্যই কারও থেকে আশা করবেন না যে সে আপনার অবস্থা বুঝবে।

ডায়েটের সাথে সাপ্লিমেন্ট যুক্ত করুনঃ

সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ক্যালসিয়াম,  ভিটামিন ডি ও ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করতে পারেন যাতে অস্টিওপরোসিস এর সম্ভাবনা না থাকে। এছাড়া আপনার নির্দিষ্ট কোন সমস্যার জন্য কোন সাপ্লিমেন্ট লাগলে ডাক্তারের সাথেকথা বলে নিতে পারেন।

ত্বকের‍ যত্ন নিনঃ

এসময় ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয়।বিশেষ করে ত্বকের শুষ্কতা দেখা যায়।তাই প্রতিদিন মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।বেশিক্ষণ গোসল করা বা পানিতে থাকা পরিহার করতে হবে কারণ এতে ত্বক আরিও বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। বাসায় বিভিন্ন ফেস প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।সামর্থ্য থাকলে ১৫ দিন পরপর ফেশিয়াল করতে পারেন।

হারবাল ট্রিটমেন্ট ঃ

কিছু পরীক্ষায় ফেখা গেছে প্রাকৃতিক কিছু সাপ্লিমেন্ট ও নিউট্রিয়েন্ট মেনোপজের উপসর্গগুলোর চিকিৎসা হিসেএ ব্যবহার করা যায়। যেমন সয়া, আইসোফ্ল্যাভন, ভিটামিন ই, মেলাটনিন, ফ্লাক্স সিড ইত্যাদি। তবে এই ব্যাপারে আরও বেশি পরীক্ষা নিরিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।


তবে আপনাকে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আপনাকে দেখে কেউ বুঝবেনা আপনি কত বড় পরিবর্তন এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আপনার কখন খারাপ লাগছে, কখন মন মেজাজ পরিবর্তন হচ্ছে তা আপনাকে দেখে আপনার আশেপাশের কেউ বুঝবেনা। নিজের অবস্থা আপনার নিজেকেই আগে বুঝতে হবে। নিজেকে ভালোবাসবেন, নিজের যত্ন নিজে নিবেন, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন। দেখবেন এই দীর্ঘ সময় আপনি সহজেই পার করে আসতে পারবেন ইন শা আল্লাহ।


***এই সাইটের লেখার কপিরাইট মডেস্ট কালেকশন এর। লেখা আপনি অবশ্যই শেয়ার করতে পারেন, সেটা আমাদের সাইট থেকে লিংক শেয়ারের মাধ্যমে। কিন্তু কপি পেস্ট করে নিজের প্রোফাইল বা পেইজে দেয়ার অনুমতি আমরা দিচ্ছিনা। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।


Continue Shopping Order Now