Continue Shopping Order Now
Parenting

আমার আদিয়ান আর তার এডিএইচডি- ১ম পর্ব

আমার আদিয়ান আর তার এডিএইচডি- ১ম পর্ব

আমার আদিয়ান আর তার এডিএইচডি


বিবাহিত জীবনের তিন বছরের অতিবাহিত হবার পরে, অনেক হরমোনাল ইমব্যালেন্স আর পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমের অসংখ্য ট্রিটমেন্ট, টেস্ট আর মেডিসিন খাওয়ার পর খুব সহজেই যখন আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় মা হলাম, করুনাময়ের কৃপায় জন্ম হলো আমার ৩০ সপ্তাহের প্রিম্যাচিউর ছেলে. আমার প্রথম সন্তান! খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম! ১০ সপ্তাহ্ আগে জন্ম হলো... আমার বাচ্চা টা ঠিক আছে তো?! ভুমিস্ঠ হবার পর যখন আতংকে আমি যখন ডাক্তার আর নার্সদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে উঠলাম, Is my baby ok?!" সিডনির স্বনামধন্য Royal Princess Alfread Hospital"র বিশেষ টিমের ১৬জনের সবাই জোরে হেসে দিয়েছিল. বেবি কেউ একজন বলে উঠেছিল, congratulation dear... your boy is absolutely fine. don't worry at all! মনে মনে আল্লাহ্ কে অনেক শুকরিয়া জানালাম. দেখতে চাইলাম, ধরতে চাইলাম.. তারা দিলনা. বলল.. এখন ধরা যাবেনা কারন চারপাশে অনেক জীবানু আর সে অনেক ডেলিকেট. মাত্র সোয়া এক কেজি ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া আমার ছেলেটার তখন অনেক কিছুই পরিপূর্ণ হয়নি. যেমন: নখ,ভ্রু, চোখের পাপড়ি, চামড়া টা পাতলা. সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল তার অন্ননালী অনেক সুক্ষ্ম আর চিকন ছিল.আমাকে শুধু মাত্র তার ছোট্ট একটা আঙুল ছুতে দিয়েছিল কেবল ২ সেকেন্ডের জন্য. নিওনাটাল ইউনিটে তার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে! তাকে সেবা যত্ন করে যে প্রতিকুল পরিবেশের সাথে বেড়ে উঠার জন্য উপযুক্ত করতে হবে! আমি শুধু হা হয়ে তাদের কাজ কর্ম দেখছি. ওরা যেন মায়ের যত্নকেও হার মানাচ্ছিল. সুবহানআল্লাহ্... দেখছিলাম আর অবাক হচ্ছিলাম আমি প্রথম মা হয়েছি. আমি কি পারবো ওকে ঠিক মতো বড় করতে?!.. এই একলা শহরে নতুন আমি তখন, কিভাবে কি করবো ভাবছি কেবল ভাবছি. এর মাঝে যাবতীয় ফরমালিটিজ শেষে আমাকে রুমে শিফট করা হয়েছে. আমি কিন্তু অপেক্ষা করেই যাচ্ছি.. আমাকে দেখতে দেওয়া হয়নি কলিজার টুকরো ছেলে টাকে. মা, বাবা আর ছেলের সবচেয়ে প্রিয় চাচ্চু তখনও অপেক্ষা করছি কখন একটু দেখবো ওকে?!... প্রায় ৫ ঘন্টা পর আমাদের কে নিয়ে যাওয়া হলো NCIU তে যেখানে ইনকিউবেটরের ভেতর আমার ছোট্ট সোনা বাবা টা উপুর হয়ে ঘুমিয়ে ছিল; ঠিক যেভাবে ও আমার পেটের ভেতর ঘুমিয়ে থাকতো! প্রথম যখন দেখলাম, আমরা তিনজনই যেন বোবা হয়ে গেলাম! আমি আমার ভারী নিঃশ্বাস টের পাচ্ছিলাম. তাকিয়ে ছিলাম শুধু...অপলক. আমার ছেলে সারা শরীর জুড়ে অসংখ্য চিকন চিকন তার নিয়ে পেচিয়ে ঘুমিয়ে আছে. হাত নিশপিশ করছিল একটু কোলে নেবার জন্য. নার্স জানালো সে খুব ভালো আছে শুধু ১০ সপ্তাহ আগে জন্ম নেবার কারনে তাকে বেশ লম্বা সময় ধরে সেখানেই থাকতে হবে পর্যবেক্ষণ আর বেড়ে উঠার জন্য. কথা প্রসঙ্গে নার্স জিজ্ঞাসা করলো তোমার ছেলের নাম বলো, আমরা ওর ইনকিউবেটরে এখনো কোন নাম দিতে পারিনি. তখন আমার চোখ গেল ইনকিউবেটরের কাচের এক প্রান্তে যেখানে লেখা"Baby of Ara". এতক্ষনে আমাদের খেয়াল হলো..আরে! আমরা তো এখনো কোন নামই ঠিক করিনি বাবুর জন্য. তাহলে?! আমরা নার্সকে খুব শীঘ্রই একটা নাম জানাবো বলে রুমে চলে এলাম. এবার শুধু খোজো আর খোজো.. ভালো সুন্দর ইসলামিক নাম খোজো. অবাক করা বিষয় হলেও ছেলের নামটা খুব তারাতারিই আমরা ঠিক করে ফেলতে পেরেছিলাম. রায়ান-আল-আদিয়ান. আদিয়ান নামের বেশ কিছু সুন্দর অর্থের মধ্যে ছিল জ্ঞানী, ধার্মিক. সাথে একটা ছোট্ট ইতিহাস ও পেয়েছিলাম.


একজন সাহাবি ছিলেন ১০০০ বছর আগে যিনি কিনা অত্যন্ত সাহসী, বিচক্ষন, সৎ আর দক্ষ একজন মানুষ এবং যোদ্ধা ছিলেন. কোন প্রতিকূলতা কে তিনি ভয় পেতেন না. সবসময় তাকেঁ নাকি কিছু না কিছু পরীক্ষার মুখোমুখি হতেই হতো! এবং তিনি জিতে যেতেন. আল্লাহু আলাম.. এটা কতখানি সত্য তবে এই বিষয়টাই আদিয়ান নাম রাখার পেছনের মূল কারন ছিল. মা হিসেবে কি তখনও আমি জানতাম সত্যি সত্যিই আমার ছেলের যতদিন হায়াত আল্লাহ্ রেখেছেন ততদিনই তার নিজের সাথে নিজের প্রতিকূলতা নিয়ে বেচে থাকতে হবে?! বড় হতে হবে?! তার যুদ্ধ টা আসলে অন্য কারো সাথে না; হবে শুধু নিজের সাথেই???


মানসিক সমস্যা বলতে বাচ্চাদের শুধু আমি জানতাম তাদের হয়তো তিন ধরনের সমস্যা হয়. ১)ডাউন সিন্ড্রোম ২)ডেভলপমেন্টাল ডিলেয়.৩)অটিজম.


কিন্তু এডিএইচডি বলে যে বাচ্চাদের নিউরোজিক্যাল কোন প্রবলেম হতে পারে যা কিনা আসলে তাদের কে মানসিক ভাবেও বিপর্যস্ত করতে পারে আর সেটা সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হতে পারে সেটা বোধহয় আদিয়ানের না থাকলে আমি অন্তত কোনদিন জানতাম না!


আমার অবশ্য এখনো অনেক জানা বাকি. জানছি শুধু জানছি..আমার হঠাৎ ই মনে হলো, আমরা আসলে কজন ভালো করে জানি এডিএইচডি টা কি? ডাক্তার রা অবশ্যই জানেন. কিন্ত সময় মতো কজন আমরা ডাক্তারের কাছে যাই? তাদের পরামর্শ নিই? সেভাবে একটা বাচ্চা কে গ্রুমিংয়ে হেল্প করি? কজন আসলে লক্ষন গুলো জানি? কজন আসলে প্রপার কেয়ার করি? আমার তো শুধু মনে হয় আমাকে জানতে হবে.. অনেক জানতে হবে? এবং.. জানাতেও হবে!


চলবে...


( এটা কোন কল্প কাহিনী নয়. বা, বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট ও নয়. একজন মায়ের জার্নি তার সন্তানকে নিয়ে. আশা করি লেখার ভুলভাল ক্ষমা করবেন. খুবই অপরিপক্ক হাতের লেখা. ধারাবাহিক ভাবে কয়েকটি পার্টে আমার জার্নি টি প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ্. পরামর্শ আর সাহায্যের অনুরোধ রইলো) 


***এই সাইটের লেখার কপিরাইট মডেস্ট কালেকশন এর। লেখা আপনি অবশ্যই শেয়ার করতে পারেন, সেটা আমাদের সাইট থেকে লিংক শেয়ারের মাধ্যমে। কিন্তু কপি পেস্ট করে নিজের প্রোফাইল বা পেইজে দেয়ার অনুমতি আমরা দিচ্ছিনা। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।


Continue Shopping Order Now