Continue Shopping Order Now
Parenting

আমার আদিয়ান ও তার এডিএইচডি পর্ব-১০

আমার আদিয়ান ও তার এডিএইচডি  পর্ব-১০

আমার আদিয়ান ও তার এডিএইচডি


strattera নিয়ে বলছিলাম সেদিন. উপাদানের নাম atomoxetin hydrocloride. অনেকে Mythilephenidate নামেও জেনে থাকবেন। এই মেডিসিনের কাজ হচ্ছে ব্রেইনের নিউরোট্রান্সমিটার ফাংশনে হেল্প করা। মানে, আপনার ব্রেইনের সাথে নার্ভ সিস্টেমের যে কো-অর্ডিশন হয়ে তাকে স্টিমুলেট করা। এই নার্ভ সিস্টেম কানেকশন স্টিমুলেশনের ফলেই কিন্তু বাচ্চারা মনোযোগী হয় এবং জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করতে পারে। সোজা বাংলায় বলতে গেলে বাচ্চার হাইপারনেস খানিক সময়ের জন্য দমিয়ে রেখে পড়াশুনায় বা জীবনের সমস্ত কাজে নিজের ইমপালসিবিলিটি কমিয়ে যেন যে কোন বাচ্চা অংশ গ্রহন করতে পারে তাতে এই ওষুধটির জুড়ি নেই। তবে এটি ছয় বছরের নিচে যেকোন বাচ্চার জন্য প্রযোজ্য নয়। 

  ব্রেইনে norepinephrine'র সাথে ক্যামিক্যালের ব্যালেন্স ঠিক রেখে বাচ্চাদের মুডে ব্যালেন্স করতে strattera সাহায্য করে এবং বাচ্চাদের হাইপার এক্টিভিটি কমায়, ফোকাসড হতে সাহায্য করে। মনোযোগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করেএবং মেমোরি শানিত করে।

আগেও বলেছি, আবার বলছি.. এটি কাজ করতে সাধারনত ৪ সপ্তাহ সময় নেয়। এবং আস্তে আস্তে প্রয়োজন অনুযায়ী ডোজ ডাক্তার বাড়িয়ে দেন। বুদ্ধি করে আবার নিজেরা ডোজ বাড়াতে যাবেন না যেন। ডাক্তার রা প্রয়োজন বুঝে প্রেসক্রাইব করবেন। এটি যেহেতু লম্বা সময় কভার করে তাই আমি এখনো আদিয়ানকে স্কুলে যাবার আগে নাস্তা খাবার আগে দিই.যা কিনা ২৪ ঘন্টা কভার করে। রাতে কখনোই দিই না। কারন সাইড ইফেক্টের একটা বড় বিষয় ঘুম কম হওয়া তাই রাতে দেওয়া সব সময় এড়িয়ে গেছি। আর রাতে তো ব‍াচ্চার তেমন কিছু তো করে ও না, তাই দরকার মনে হয়নি।


straterra শুরু করার কিছুদিন পর থেকেই আদিয়ানের মধ্যে মাশাআল্লাহ্ পজেটিভ কিছু ব্যাপার লক্ষ্য করলাম। যেমন, আগের থেকে একটু মনোযোগী মনে হয়েছে। একটু স্থির হয়েছে যেন। কিছু বললে শুনছে; অবিরত পুশ করতে থাকতে হয় তারপরও অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল একটু একটু করে। খেয়াল করেছি হোম ওয়ার্ক করতে বসছে। তার যে পড়াশুনার প্রতি একটা দায়িত্ব আছে এটা একটু বুঝতে পেরেছিল মনে হয়। তবে নিজের প্রতি একটা কম্পলেইন তখনও থেকে গেল। "আমি কেন ভুলে যাই, আমি তো পারবো না" এইরকম... আর দেখতাম এংগার ম্যানেজম্যান্টট‍া অনেক কম এখনো। যা মনে হচ্ছে দুম করে বলে ফেলে। দুম করে করে ফেলে। খুব বেশি সোশালাইজেশন তখনো করতে পারছেনা, তবে চেস্টা করছে। বন্ধু বানাতে পেরেছ জানতে চাইলে বলতো কেউ এখনো বন্ধু না ওর একজন ছাড়া। যেহেতু ও খুব ইমপালসিভ দেখা যেত যে কোন খেলার টার্ন বা কথা বলতে গেলে ওর রেসপন্স টা অনেক বেশি কুইক হয়ে যেত। গ্রুপে ম্যাচ করেনা বিষয়টা। চিন্তা ভাবনা ছাড়া কথা কাজ কারবারের জন্য অনেক প্রবলেমে পড়তে হয়। এদিক থেকে তখন এডিএইচডি বাচ্চা থাকার মনে হয় একটা সুবিধাই হলো। যেহেতু এরা ইমোশনের উপর আ্যাক্ট করে,খুব একটা সাজিয়ে গুছিয়ে মিথ্যা বলতে পারেনা। হয় তারা ভুলে যাবে, নয়তো খুব ইমপালসিভ হবে। এভাবেই চলতে থাকলো। সারাদিন একই রুটিন। আমিও তোতা পাখিতে রুপান্তরিত হচ্ছি দিন দিন। আদিয়ান কে গাইড করি বিভিন্ন ভাবে। মোটিভ একটাই... আদিয়ানের যত সমস্যা থাকুক না কেন ওকে পজেটিভলি এপ্রোচ করে এক্টিভ করা। কথাগুলো যতটা সহজ ভাবে লিখলাম প্রতিটা দিন এখনো তেমন ই কঠিন। মা হিসেবে অধৈর্য্য হয়ে গিয়ে আবার সামলে নিই নিজেকে। মাঝে মাঝে মনে হয়, ইস্ কি সুন্দর দিন কাটালাম। আবার কোন কোন দিন মনে হয় আল্লাহ্ এই ছেলেকে নিয়ে আমি কি করবো?! অনেক সার্থকতার মধ্যে একটা একটা বড় ব্যর্থতা এখনো আছে,ছেলেটার খেলাধূলার পরিমান টা বাড়াতে পারিনি। খুব আলসে এ ব্যাপারে। খেলাধুলা আরো একটু বাড়াতে পারলে হয়তো আরো ফোকাসড হবে।

  চলবে... 


প্রথম পর্বের লিংক https://www.modestbd.com/blog/life-with-adhd-attention-deficit-hyperactivity-disorder



***এই সাইটের লেখার কপিরাইট মডেস্ট কালেকশন এর। লেখা আপনি অবশ্যই শেয়ার করতে পারেন, সেটা আমাদের সাইট থেকে লিংক শেয়ারের মাধ্যমে। কিন্তু কপি পেস্ট করে নিজের প্রোফাইল বা পেইজে দেয়ার অনুমতি আমরা দিচ্ছিনা। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।



Continue Shopping Order Now