Continue Shopping Order Now
Parenting

আমার আদিয়ান ও তার এডিএইচডি পর্ব-৮

আমার আদিয়ান ও তার এডিএইচডি পর্ব-৮

আমার আদিয়ান ও তার এডিএইচডি


ডা. লিসার কাছ থেকে আমরা আবার যখন ডা. ডানস্টেনের কাছে ফেরত আসলাম তখন তিনি খুব মনোযোগের সাথে সব রিপোর্ট গুলো আবার খুটিয়ে খুটিয়ে পড়লেন আমাদের সামনেই. তারপর উনি বেশ কিছু ওষুধ পত্রের নাম এবং তার ব্যবহার বিধি আমাদের সামনে উল্লেখ করলেন। ওষুধগুলো খাবার সুফল বা পার্শ্বপতিক্রিয়াও জানালেন এবং এও বললেন এ ওষুধগুলো সবসময় কন্টিনিউ করতে হবে। মানে, যতদিন আদিয়ান বেচে থাকবে বিভিন্ন ডোজে ততদিন এগুলো খেয়ে যেতেই হবে। এই কথা টা শুনে একটু মন টা খারাপ হলো। একটা ওষুধ সারাজীবন চালিয়ে যাওয়া সহজ ব্যাপার তো নয়। কিন্তু যেহেতু ওর পড়াশুনা আর ব্যক্তি গত জীবনে মনোযোগে এই ওষুধ গুলো ভুমিকা রাখবে তাই অন্য কোন উপায় ও নেই। চালিয়ে যেতে হবে।

   এর পর উনি জানালেন এই ওষুধগুলোর খেলে যেই পার্শ্বপতিক্রিয়া হতে পারে তা নিয়ে। তা হলো; ঘুম কমে যেতে পারে/খাওয়ার চাহিদা কমে যেতে পারে/কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে, সার‍দিন ঝিমুনি লাগতে পারে, ওজন কমে যেতে পারে, কিছুটা চুলকানি হতে পারে, মাথা ব্যথা থাকতে পারে, মুড সুয়িং হতে পারে, অহেতুক ইমোশন বেড়ে কান্নাকাটির পরিমান বেড়ে যেতে পারে...ইত্যাদি. এমন এক একটা সাইড ইফেক্ট কি আর বলবো?! তবে আসলে সব সাইড ইফেক্ট গুলি একসাথে দেখা যায়না। তারপরও ভাবনায় পড়ে গেলাম। না জানি কোনটা হয় কিভাবে কি করবো.??

তারপর ডাক্তার সবচেয়ে বেশি জোর দিলেন ওর কগনিটিভ স্কিল ডেভেলপের দিকে। (এই জিনিসটা কে আমি সোজা বাংলায় বলবো ,আপনার বাচ্চা যাই করবে না কেন আপনি সারাক্ষন তার পিছে পিছে থাকবেন,তাকে ভুল-শুদ্ধ নির্নয়ে সাহায্য করবেন। কোনটা করা উচিত আর কোনটা না তা তাকে পজিটিভলি বোঝাবেন ইত্যাদি; ডিটেইল বলছি একটু পরে)। আমাকে ডাক্তার একটু মুচকি হেসে বললেন, ,Ara you understanding ma darl,what i am saying to you! আমি একটা শুকনো হাসি দিলাম. কথাটার মানে ছিল, নিজেকে একদম ভুলে যাও। নিজের সব ভুলে যাও। শুধু ছেলেকে সময় দাও!মাথা নেড়ে জানালাম, বুঝেছি।

আবার আসি মেডিসিন প্রসংগে। ডাক্তার প্রথমে জানালেন এই মেডিসিন গুলো কয়েকভাবে কয়েকরকম ভাবে দেওয়া যায়। ৪ থেকে ৬ঘন্টা পরপর, ৬ থেকে ৮ ঘন্টা পরপর আবার ৮ থেকে ১২ ঘন্টা পরপর। এগুলো কে বলা হয় শর্ট টার্ম মেডিসিন। লংটার্ম মেডিসিন ও আছে.যা কিনা সারা ২৪ ঘন্টায় মাত্র ১বার নিলেই হবে। আমার কাছে এটা সুবিধা জনক মনে হয়েছিল। কারন তাহলে আমি শুধু দিনের শুরুতে একবার স্কুলে যাওয়ার আগে দিলেই হয়ে যাবে।নয়তো স্কুল অথোরিটি কে ইনভলভ করতে হতো মাঝখানের সময়ে মেডিসিন দেওয়ার জন্য। এক দুদিনের জন্য হলে ঠিক ছিল, কিন্তু রোজ রোজ দেওয়া ব্যাপারটা তারা ঠিকমতো মেইন্টেইন করতে পারবেন কিনা কনফিউজড ছিলাম। তাই লং টার্ম মেডিসিন টা ই নিলাম।

প্রেসক্রাইবড মেডিসিন নিয়ে বের হয়ে এলাম। যেই মেডিসিন টা তিনি প্রথমে দিয়েছিলেন তা মূলত শুধু ৪ সপ্তাহ ট্রায়ালের জন্য. আগে দেখতে হবে ওকে স্যুট করে কিনা. যেহেতু মেডিসিনের সাইড ইফেক্ট আছে আগে আদিয়ানকে অবজার্ভ করতে হবে. তারপর মেডিসিন কন্টিনিউ করতে হবে।

   পুরো রাস্তা জুড়ে সমস্ত কিছু ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফিরছি। গাড়ির চাকা চলছে.. মনটা হু হু করছে সাথে সাথে। কেবলই তো জীবনটা মাত্র শুরু করছিলাম গুছিয়ে.. দুটো সন্তান নিয়ে ওর বাবার ব্যবসাটা খুব সন্দর গুছিয়ে তুলেছিলাম। তারপর তো নিজের দিকে মনোযোগ দিয়েছিলাম। কেবলই বন্ধুর সাথে মিলে একটা লেডি আউটফিটের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম শুরু করেছিলাম মাত্র বছর হতে চললো! ভালোই তো হচ্ছিল। কত কিছু প্ল্যান করছিলাম নিজে কিছু করবো তাই, সব মাটি চাপা দিতে হবে?! আমি কি তাহলে নিজে জীবনে কিছু করতে পারবো না? কিংবা আমার ছেলেটার ভবিষ্যৎ কি? ছোটটাকে কি করবো? সারাক্ষন আদিয়ানকে কগনিটিভ সাইডটা দেখতে গিয়ে সব গুলিয়ে ফেলবো নাতো? সংসার ছাড়াও তো কত শত দায়িত্ব রয়েছে সব পারবো আমি ম্যানেজ করতে?!

মনে হলো... কেন অশান্ত হচ্ছি, আল্লাহ তো আছেন। আমাদের জন্য যা ভালো তাই তো তিনি বিবেচনা করে রেখেছেন। সবর করতে হবে, বিশ্বাস রাখতে হবে। আর যথেস্ট সৎভাবে উত্তোরনের পথে হাটতে হবে। একটু না হয় কাটাময় হলোই জীবন টা, শেষ টা ভালো হলেই হলো, তাই না?

যতটা বিচলিত হয়ে ভেবে ভেবে সারা পথ আসছিলাম, ঠিক ততটাই শান্ত মনে বিসমিল্লাহ্ বলে ঘরে পা দিলাম। আর ভাবলাম... তিনি(আল্লাহ্) ছাড়া আসলেই কোন সহায় নেই...

চলবে... 


প্রথম পর্বের লিংক https://www.modestbd.com/blog/life-with-adhd-attention-deficit-hyperactivity-disorder



***এই সাইটের লেখার কপিরাইট মডেস্ট কালেকশন এর। লেখা আপনি অবশ্যই শেয়ার করতে পারেন, সেটা আমাদের সাইট থেকে লিংক শেয়ারের মাধ্যমে। কিন্তু কপি পেস্ট করে নিজের প্রোফাইল বা পেইজে দেয়ার অনুমতি আমরা দিচ্ছিনা। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।


Continue Shopping Order Now