Article

ঘরে বসেই বিজ্ঞানঃ পানি যখন উপরে ওঠে

ঘরে বসেই বিজ্ঞানঃ পানি যখন উপরে ওঠে

বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার নাম শুনলেই যেন জটিল সব যন্ত্র, এপ্রন, গগলস আর নাম না জানা কেমিকেল কল্পনায় ভেসে ওঠে।

আসলেই কি তাই? ঘরে যা আছে তা দিয়েই ছোটদেরকে চমকে দেয়া সব এক্সপেরিমেন্ট করা সম্ভব।

আজ কথা হবে ঘরে বসে করা যায় এমন এক মজার সায়েন্টিফিক এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে।


বিজ্ঞানের চমক

পানি উপর থেকে নিচে গড়িয়ে পড়ছে এমনটাই দেখেছি আমরা। কিন্তু আজ পানি নিচ থেকে তরতরিয়ে উপরে উঠে যাবে।

অবাক লাগছে? কীভাবে সম্ভব? জানতে হলে পড়তে হবে শেষ পর্যন্ত।


যাদের জন্য প্রযোজ্য

বৈজ্ঞানিক এক্সপেরিমেন্ট করার আসল উদ্দেশ্য হল মজায় মজায় বিজ্ঞান শেখা। আজকের এক্সপেরিমেন্টের পেছনে যে বিজ্ঞান কাজ করছে,

 তা সাধারণত বার থেকে তের বছরের শিশুরা অনায়াসেই বুঝতে পারবে।


যা যা লাগবে

‌একটি প্লেট

‌ফুড কালার

‌পানি

‌ছোট্ট মোম

‌ম্যাচ

‌একটি স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাস


যেভাবে করতে হবে

প্রথম কাজ এক কাপ পানিতে ফুড কালার গুলিয়ে প্লেটে ঢেলে নেয়া। ফুড কালারের কারণে পানির উঠানামা সহজেই বোঝা সম্ভব।

প্লেটে পানির উচ্চতা কমপক্ষে এক সেন্টিমিটার হওয়া চাই। এর থেকে বেশি উচ্চতা হলেও সমস্যা নেই, তবে কম হলে পরীক্ষা ঠিক যুতসই হবে না।

ছোট্ট মোমটা বসাতে হবে রঙীন পানিসহ প্লেটের মাঝে।

এবার মোম জ্বালানোর পালা।

এক্সপেরিমেন্টের ফাঁকে ফাঁকে বাচ্চাদেরকে বাতাসের চাপ সম্পর্কে ধারণা দেয়া যেতে পারে।

তাপমাত্রা বাড়লে চাপ কেমন থাকে, কমে গেলেই বা কী হয় ইত্যাদি গল্পচ্ছলে তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিতে হবে।

স্বচ্ছ গ্লাস উপুর করে জ্বলন্ত মোমটা ঢেকে দেয়ার পর বাচ্চাদেরকে গভীর মনযোগে পর্যবেক্ষণ করতে বলুন। এ সময় প্লেট ও গ্লাসের সংযোগস্থল দিয়ে কিছু বুদবুদ বেরিয়ে যেতে দেখা যাবে।

এক সময় দপ করে মোম নিভে যাবে। আর তখনই হবে ম্যাজিক। হুট করে গ্লাসের ভেতরে পানির লেভেল বেশ খানিকটা উপরে উঠে যাবে!


কেন এমন হলো?

আগেই যেহেতু বাচ্চাদের সাথে বাতাসের চাপ, 

তাপমাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়ে গেছে, 

তাই সরাসরি ব্যাখ্যায় যাবেন না। বরং ওদেরকেই পালটা প্রশ্ন করুন কেন এমন হলো?

বাচ্চারা হয়ত উত্তর দিতে পারবে, 

হয়ত পারবে না। তবু ওদেরকে চিন্তা করার সুযোগ দিন। এক্সপেরিমেন্টের সার্থকতা এখানেই। শিশুরা চিন্তা করতে শিখবে। উত্তর পেরে গেলে তো ভালোই,

না পারলে জানিয়ে দিন গ্লাসের ভেতর বায়ুচাপের তারতম্যের কারণেই এমনটা হয়েছে।

তাপমাত্রা বাড়লে বাতাসের অণুগুলোর ছুটোছুটি বেড়ে যায়। যার ফলে গ্লাসের ভেতর বায়ুর চাপ বেড়ে গিয়েছিল। যে কারণে কিছু বাতাস বুদবুদ হয়ে গ্লাসের মুখ দিয়ে বেরোতে দেখা গেছে।

মোমটা যখন নিভে গেল, তখন তাপমাত্রা কমে গেল। বাতাসের অণুর ছুটোছুটিও কমে গিয়ে গ্লাসের ভেতর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।

গ্লাসের ভেতরে নিম্নচাপ, 

আর বাইরে উচ্চচাপ। এ দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করতেই প্লেট থেকে রঙীন পানি গ্লাসে উঠে আসে।

 গ্লাসের ভেতর পানির লেভেল বাড়তে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না ভেতর আর 

বাইরের চাপ সমান হয়ে যায়।

এ এক্সপেরিমেন্টের সবচেয়ে চমৎকার দিক হলো- যারা পানির উপরে ওঠার কারণ 

বুঝতে পারলো তারা তো আনন্দ পাবেই, যারা বোঝেনি তারাও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে 

যাবে! আপনার সন্তানের বিজ্ঞান বোঝার বয়স হয়নি তো কী হয়েছে? ওকে সাথে নিয়ে 

আজই এক্সপেরিমেন্ট করে ফেলুন! দু’জনেরই বেশ সুন্দর, প্রোডাক্টিভ সময় কাটবে।