নো মোর স্ক্রিন টাইম

আজকাল সবার একটাই সমস্যা,বাচ্চারা খেতে চায় না।বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য তাদের পিছে অনেক সময় দিতে হয়,তবুও মন মতো খাওয়ানো যায় না।অনেকের সংসার, চাকরি সব মিলিয়ে ঝামেলা থাকে প্রচুর, এর মাঝে বাচ্চাকেও ২৪ ঘন্টা সময় দেওয়া তো সম্ভব না। এই সব সমস্যার একটাই সমাধান বের হয়ে আসে তা হলো বাচ্চাকে মোবাইল বা ট্যাব বা ল্যাপটপের সামনে বসিয়ে দেওয়া।সে সময় হয়তো কাজ উদ্ধার হয়ে যায় কিন্তু যখন বুঝতে পারি আমরা যে কি ভুলটাই না করে ফেলেছি ততদিনে অনেক দেরি  হয়ে যায়।

বাচ্চাকে মোবাইল আসক্তি থেকে বের করা অসম্ভব মনে হয় আর আমরা নিজেদের দোষারোপ করতে থাকি। স্ক্রিন টাইমের কুফলের আলাপে আমি যাবো না,আমি আজ আলোচনা করবো কিভাবে এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

 

০০% প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকুন যে বাচ্চাকে স্ক্রিন টাইম দিবেন নাঃ

স্ক্রিনটাইম বন্ধ করে দিলেই বাচ্চারা অনেক ট্যানট্রাম বাধিয়ে দেন।যেমন কান্নাকাটি, জিনিস ভাংচুর করা, খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া ইত্যাদি কাজ করবে।কিন্তু আপনার মনকে শক্ত রাখতে হবে যে আপনি দিবেন না মানে দিবেনই  না।আপনি যখন একবার না বলবেন সে সময়ে কোনভাবেই সেটাকে হ্যা- তে পরিবর্তন  করবেন না।বাচ্চার এসব আচরণ কিভাবে কন্ট্রোল করতে চেষ্টা করবেন তা আমি পরবর্তীতে আলোচনা করবো ইনশা আল্লাহ।কিন্তু আপনাকে আপনার নিজের ডিসিশনের উপর শক্ত থাকতে হবে,নয়তো স্ক্রিন টাইম বন্ধ করা কঠিন হয়ে যাবে।

 

ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুনঃ

একদিন হটাৎ করে ভিডিও দেখা বন্ধ করেদিলে বাচ্চারা অনেক বেশি রিএক্ট করে যা আয়ত্তে আনা কঠিন হয়ে  যায়।তাই ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে আনতে একেবারে বন্ধ করে ফেলুন মোবাইলে গেমস খেলা বা ভিডিও দেখা। যেমন আপনার সন্তান যদি তিনবেলা খাওয়ার সময় ভিডিও দেখে খায় তাহলে প্রথমে ২ বেলা দিন ১ সপ্তাহ, এরপর যে কোন ১ বেলা এক সপ্তাহ, এরপর একেবারেই বন্ধ করে দিন।

হটাৎ করে যদি বলেন যে এখন তোমাকে ভিডিও ছাড়াই খেতে হবেতাহলে বাচ্চা মানতে চাইবেনা এটাই স্বাভাবিক।তাই আগে ওকে এর বদলে কিছু দিয়ে ব্যস্ত রাখুন।যেমন, কালার পেন্সিল নিয়ে বসতে পারেন,মজার কোন ছবি এঁকে দেখাতে পারেন,ওযখন খেলায় মন দিবে তখন খাওয়ানো শুরু করবেন।খেলায় ব্যস্ত থাকায় খেয়াল করবেনা যে ভিডিও দেখা ছাড়াই খেয়ে ফেলেছে।পুরাতন খেলনা দিয়ে এই কাজ হয়না,তাই নতুন কোন খেলনা, বা বাসারই কোন জিনিস যা দিয়ে ও আগে খেলেনি এমন কিছু দিবেন।তাহলে আগ্রহ বেশি থাকে।খাওয়া শেষ হলে তা নিয়ে নিবেন।পরের দিনশুধু খাওয়ার সময় আবার দিবেন।২/৩ দিন পর আগের অন্য কোন খেলনা দিয়েই নতুন কোন খেলা খেলবেন ওর সাথে।  এটা ১-৩ বছরেরবাচ্চাদের বাচ্চাদের জন্য খুব কাজে দেয়।

 

স্ক্রিন টাইম ফিক্সড করে দিনঃ

 যেসব বাচ্চারা কথা বুঝে তাদের জন্য এটা কার্যকরী। দিনের যে কোন একটাই টাইম ফিক্স করে দিন মোবাইলে গেম খেলার বা ভিডিও দেখার।তবে সে টাইম অবশ্যই খাওয়ার সময় বাদে অন্য কোন সময় হতে হবে।প্রথম প্রথম রাজি হবেনা,তখন আপনাকে অল্টারনেটিভ কোন খেলা শিখিয়ে দিয়ে বা কোনভাবে ব্যস্ত করে ভুলিয়ে রাখতে হবে।এবং ওর মোবাইল পাওয়ার সময় হলে হাতে মোবাইল দেওয়ার সময় অবশ্যই প্রশংসা করতে হবে যে ও আপনার কথা শুনে এতোক্ষন অপেক্ষা করেছে তাই মোবাইল পেয়েছে।তবে ওর জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলে আবার মোবাইল নিয়ে যাবেন। যতই কান্নাকাটি করুক,আবার কালকে দিবেন বলবেন। প্রথম প্রথম মানতে চাইবেনা,এরপর সারাদিন অপেক্ষা করবে নির্দিষ্ট সময়টির জন্য।যখন দেখবে রেগুলার পাচ্ছে আস্তে আস্তে সময়ের খেয়াল থাকবে না।তখন না চাইলে দিবেন না।এভাবে এক সময় আর মনেও থাকবেনা ইন শা আল্লাহ।

(চলবে)

নায়লাহ আমাতুল্লাহ,
ফিচার রাইটার, ModestBD

Leave a Reply